প্রতিবছর মে মাসের ১ তারিখে বিশ্ব শ্রমিক অথবা মে দিবস উদযাপিত হয়। অন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত এই দিনটি লেবার ডে বা ওয়ার্কার্স ডে হিসেবেও পরিচিত। প্রাচীন ইউরোপে এই দিনটি পালন করা হত বসন্তকে স্বাগতম জানানোর জন্যে। ইতিহাস এই দিনটিকে বসন্তের চাইতেও বেশী গুরুত্ব দেয় যখন ১৮৮৬ সালে শ্রমিক জনতা একত্রিত হয় নিজেদের দাবী আদায়ের লক্ষে। আমরা যারা সাধারণ মানুষ, তাদের অনেকের কাছেই মে দিবস নিছকই একটি ছুটির দিন। দোষ দেবনা, কারন খোদ আমেরিকা, যেখান থেকে মে দিবসের উৎপত্তি, সেখানেও খুব কম লোকই জানে এই বিশেষ দিবসের তাৎপর্য। আমরা যে সেক্টরেই কাজ করি না কেন, একজন পেশাজীবী হিসেবে অবশ্যই আমাদের এই অজ্ঞতা ঘুচানো দরকার। সে লক্ষেই আজ আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
উনিশ শতকের শেষ দিকে যারা বিভিন্ন দেশে পেশাজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন, সম্ভবত তাদের কেউই আজ বেচে নেই। বেচে থাকলে যদি তাঁদের মুখ থেকে তখনকার কাজের ক্ষেত্রের অবস্থার ব্যাপারে শুনতেন, আপনার নিজের কাছেই খারাপ লাগত। এখন আমাদের দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয়, সাধারণত এর বেশী কাজ করলে আপনাকে উপরি বা ওভারটাইম দিতেও আপনার কোম্পানি বাধ্য। কিন্তু সে সময় এগুলো কোন নিয়মই ছিল না। মালিকরা শ্রমিকদের ইচ্ছামত খাটাত। গড়ে সবাইকে ১০-১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হত, কোন ওভার টাইমের হিসাব ও ছিল না।